নিজেদের দলের ব্যাটারের আউটেও ক্ষোভ নেই! মাহি নামতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল চিপকের গ্যালারি


চিপকের মাঠে ব্যাট করতে নামছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। 

সুবর্ণরেখা প্রতিবেদন: গোটা মাঠ যেন এটাই চাইছিল। মহেন্দ্র সিং ধোনির (MS Dhoni) মাঠে নামা।  রবিচন্দ্রণ অশ্বিন (Ravichandran Ashwin) আর রাচিন রবীন্দ্র (Rachin Ravindra) - এদের মধ্যে যে কোনও এক জন আউট হোক। শেষ লগ্নে সেটা যখন হল, তখনই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল প্রায় গোটা গ্যালারি। তাঁরা কি তবে মুম্বইয়ের সমর্থক? না। গোটা গ্যালারি হলুদ জার্সি পরা। চেন্নাই সুপার কিংসের ফ্যানে ভর্তি। তাঁরাই নিজের দলেই ব্যাটার আউট হতে এমন উন্মাদনা সত্যিই বিরল। আর ওই আউটের পরেই যেন ষোলকলা পূর্ণ হল। 

কেন এমন হল? কারণটা মহেন্দ্র সিং ধোনি। রাচিন রবীন্দ্র আউট হলেই যে তাঁর মাঠে নামার কথা। গোটা গ্যালারি যেন সেটারই অপেক্ষা করছিল। ম্যাচ হাতের মুঠোয়। কিন্তু সেই ম্যাচ জয়ে যতটা না আনন্দে ভাসল চিপক, তার চেয়েও বেশি উল্লাস ধরা পড়ল ধোনি ব্যাট হাতে নামার পর। মাঠে নেমে অবশ্য কোনও রান করেননি। দুটি বল ফেস করেন। ডিফেন্সিভ খেলেন। ওভার শেষ হয়ে অন্য প্রান্তে থাকা রবিচন্দ্রণ অশ্বিন ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতান। কিন্তু তাতে কি, ঘরের মাঠে মাহি মাঠে নেমেছেন, চিপকের কাছে সেটাই যেন সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। হয়তো ম্যাচ জেতার চেয়েও। 

ম্যাচেও আগাগোড়া দাপট দেখিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চেন্নাইয়ের অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। সিদ্ধান্তটা যে ভুল ছিল না, ম্যাচ খানিকটা গড়াতেই বোঝা গেল। প্রথম ওভারেই ফিরে গেলেন রোহিত শর্মা। তার পর ধারাবাহিক ভাবে উইকেট পড়তে থাকল। চিপকের স্পিন উইকেটে দাপট দেখাল স্পিনাররা। যদিও গোড়াতেই রোহিতকে ফিরিয়ে ম্যাচে বড় ধাক্কা দেন বাঁ হাতি পেসার খলিল আহমেদ। মুম্বইয়ের ইনিংসে ধসের সেই শুরু। দ্বিতীয় ওপেনার রিকেলটনকেও প্যাভিলিয়নে ফেরান খলিল। আর শেষ বলে জোট ট্রেন্ট বোল্টকে ফিরিয়ে মোট তিন উইকেট তুলে নেন খলিল।

ভিডিও সৌজন্য: এক্স

মঝের কাজটা সারেন স্পিনররা। চেন্নাইয়ের স্পিন সহায়ক পিচের কথা মাথায় রেখেই চার স্পিনার রেখেছিল চেন্নাই। সেটাও সফল। আফগান স্পিনার নুর একাই চার উইকেট তুলে নেন। ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নুরের ঝুলিতে। অশ্বিন তুলে নেন এক উইকেট। পেসার নাথান এলিসও উইকেট পেয়েছেন। তবে উইকেট না পেলেও ভাল ইকনমি রেট জাদেজার। ৩ ওভারে দেন ২১। 

মুম্বইয়ের ইনিংসে উল্লেখযোগ্য রান বলতে অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব। ২৯ রান করলেও খেলেছেন ২৬ বল। তবে যে দ্রুতগতিতে ধোনি তাঁকে স্টাম্প করে ফেরালেন সেটাও ধোনিসুলভই। নুর আহমেদের বল ওভার স্টেপ করে ক্রিজ ছেড়ে খেলতে যান স্কাই। কিন্তু মিস করায় মাত্র ০.১২ সেকেন্ডে স্টাম্প করে ফেরান সূর্য কুমারকে। যে সময়ের মধ্যে সূর্য কুমারকে ধোনি আউট করেন, সূর্যকুমারের ব্যাট তখনও পুরোপুরি ঘোরানোও শেষ হয়নি।। যাই হোক শেষ বেলায় তবু কিছুটা মান রক্ষা করেছেন সিএসকে-র প্রাক্তনী দীপক চাহার। না হলে দেড়শোর গণ্ডিও হয়তো পেরোতে পারত না মুম্বই। শেষ পর্যন্ত ১৫৪ রানে শেষ হয় মুম্বইয়ের ইনিংস। 

বাকি ম্যাচ ছিল কার্যত নিয়ম রক্ষার। অধিনায়কোচিত ৫৩ রান করেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। শেষ পর্যন্ত ধোনির দল জেতে ৪ উইকেটে। আইপিএল-এ দুই দলই পাঁচবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফলে মর্যাদার লড়াইয়ে প্রথম ম্যাচে জিতে শেষ হাসি হাসল মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস।